ম্যাচের বয়েস তখন ৬৩ বা ৬৪ মিনিট। পিয়ারলেস কোচ হেমন্ত ডোরা তাকে নামালেন। ম্যাচ তখন ০ -- ০, পিয়ারলেস ম্যাচটা জেতে ৪ -- ০ গোলে। তার হ্যাটট্রিক ছিল। হ্যাঁ,মাত্র ২৬ -- ২৭ মিনিট খেলে হ্যাটট্রিক। এবং প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীভূমি। গত কলকাতা লিগের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অত কম সময় খেলে হ্যাটট্রিক এবং ম্যান অফ দা ম্যাচ!
বাবা রাম হাঁসদাও ফুটবল খেলতেন। ছোট ছেলেকে ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন নিয়েই ভর্তি করে দিয়েছিলেন পাণ্ডুয়ার ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। সেখানে কোচ ছিলেন শ্রদ্ধেয় " মুরারী স্যার ", ছিলেন কর্মকর্তা বাবু নন্দী। পাণ্ডুয়ার অ্যাকাডেমি থেকেই উত্তমকে পাঠানো হয় সি সি এফ সির ট্রায়ালে। শুধু উত্তম নয়, পাণ্ডুয়ার অ্যাকাডেমি থেকে বেশ কয়েকজনই গিয়েছিল সেই ট্রায়ালে। সে বছরেই ময়দানে প্রথম পা রাখল রাম হাঁসদার ছেলে উত্তম হাঁসদা। প্রথম বছরে সি সি এফ সির হয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে দশটা গোল ছিল উত্তমের।
এরপর পাণ্ডুয়ার ছেলে পড়ল সবুজ -- মেরুন জার্সি। মোহনবাগান তাদের রিজার্ভ টিমের জন্য নিল উত্তম হাঁসদাকে। আর এফ ডি এলে মোহনবাগানের হয়ে তিন -- চারটে গোল করল উত্তম। মোহনবাগানের হয়ে দুটো সি এফ এল খেলল। কিন্তু তেমন গেম টাইম পাচ্ছিল না। অতএব গত বছর সে এল পিয়ারলেসে। প্রথমে ফার্স্ট ইলেভেনে তেমন জায়গা হচ্ছিল না তার। সাউদার্ন সমিতির বিরুদ্ধে প্রথম মাঠে নামল উত্তম। দল তখন এক গোলে পিছিয়ে। শেষ পর্যন্ত পিয়ারলেস ম্যাচটা জিতল ২ -- ১ গোলে, জয়সূচক গোলটা উত্তমের। উয়াড়ির বিরুদ্ধেও চেঞ্জ হিসাবে এসেই ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়েছিল উত্তম। দল সেখানেও এক গোলে পিছিয়ে। ম্যাচ ড্র হয়েছিল এক -- এক গোলে। দলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়ে ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়েছিল উত্তম।
মোট ছটা গোল, দুটো ম্যান অফ দা ম্যাচ। উত্তম হাঁসদা গত সি এফ এল -- এর উজ্জ্বল আবিষ্কার। পিয়ারলেস সুপার সিক্সে পৌঁছতে পারলে হয়তো উত্তমের গোলের সংখ্যা আরো বাড়ত। এ বছর অবশ্য দল পাল্টাচ্ছে উত্তম। রঞ্জন ভট্টাচার্যের কোচিংয়ে সুরুচি সংঘে খেলবে সে। সন্তোষ ট্রফি দলেও জায়গা হয়েছিল উত্তমের। প্রথম ম্যাচে প্রথম এগারোতে জায়গাও হয়েছিল। কিন্তু ওই ম্যাচেই চোট, সন্তোষ ট্রফির আর কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তার। চোটের কারণেই খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসেও খেলতে যেতে পারেনি উত্তম।
আইডল সুনীল ছেত্রী, ভালো লাগে লিস্টন কোলাসোকে। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে উত্তমের প্ৰিয় এক ও অদ্বিতীয় মেসি। প্রধানত স্ট্রাইকার কিন্তু মোহনবাগানে উইঙ্গার হিসাবেই খেলেছিল উত্তম। আর বাংলা দলে সে প্রথম ম্যাচটা খেলেছিল " নাম্বার টেন " পজিশনে। উত্তমের মূল অস্ত্র ওর গতি আর স্কোরিং এবিলিটি।
স্ট্রাইকারের অভাব গোটা দেশেই, বাংলাতেও প্রকৃত স্ট্রাইকারের বড় অভাব আজ। এবং উত্তম হাঁসদা সেই সময়ে নিঃসন্দেহে আশার আলো। বাংলা ফুটবলের মুখ হওয়ার ক্ষমতা রাখে উত্তম। শুধু নিজেকে ক্রমাগত ধারালো করার কাজটা চালিয়ে যেতে হবে তাকে, চোট -- আঘাত এড়িয়ে।
Powered by Froala Editor
